টেস্টিং সল্ট অনেকের কাছেই স্বাদ বাড়ানোর জন্য রান্নার একটি সাধারণ উপাদান. এর ব্যবহারে স্বাদ ঠিকই বাড়ে, আর সাথে বাড়ে ভীতিকর স্বাস্থ্য ঝুকি কিছু ঝুকি সাময়িক আর কিছু দীর্ঘস্থায়ী। টেস্টিং সল্ট এর রাসায়নিক নাম মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট (MSG) যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা স্নায়ুবিষ বলে আখ্যায়িত করেছেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, টেস্টিং সল্ট মস্তিস্ককে উদ্দীপ্ত করে এমন একটি অবস্থার সৃষ্টি করে যাতে মনে হয়, খাবারটি খুবই সুস্বাদু। ওই খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়ে। ভয়ের ব্যপার হচ্ছে টেস্টিং সল্ট দেয়া খাদ্য শিশুরা বেশী পছন্দ করে। এতে করে অনেক অভিভাবকই বাচ্চাদের পছন্দের দিকে নজর রেখে প্রায়ই ওই টেস্টিং সল্ট মিশ্রিত খাবার কিনে দিচ্ছেন।

মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর টেস্টিং সল্টমিশ্রিত খাবার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে বিষিয়ে তোলে। ফলে স্নায়ুতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। ঘুম কম হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছে স্বাভাবিক খাবার অরুচিকর লাগে। কাজে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা হ্রাস পায়। পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা টেস্টিং সল্টকে বিজ্ঞানীরা উদ্দীপক বিষ নামে অভিহিত করেছেন। নিয়মিত টেস্টিং সল্ট ব্যবহারকারীদের মধ্যে মাথাব্যথা, খিঁচুনি, হরমোন নিঃসরণে গোলযোগ, মনোবৈকল্য, শিশুদের ক্ষেত্রে লেখাপড়ায় কম মনোযোগ. অতিরিক্ত ছটফটানি ভাব, হাঠৎ ক্ষেপে যাওয়া, মুটিয়ে যাওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অ্যাজমায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা টেস্টিং সল্ট খেলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এ ছাড়া এটি মস্তিস্কে ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

থাই, চায়নিজ ও ইন্ডিয়ান খাবারে টেস্টিং সল্ট বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা হয়।বর্তমানে ফাস্টফুডের দোকানগুলোতেও মাত্রাতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। ঘরোয়াভাবে তৈরি খাবারে নিয়মিত টেস্টিং সল্ট ব্যবহারকে বিপজ্জনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কোনো খাবারে ঝাঁজালো নোনা স্বাদ পাওয়া গেলে বুঝতে হবে, তাতে টেস্টিং সল্ট আছে। বাজারে বিক্রি হওয়া পটেটো চিপসে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া চিকেন ফ্রাই থেকে শুরু করে শিশুদের সিরিয়াল, চকলেট, বেবি ফুড, সস, বিস্কুট, বিশেষ করে ক্র্যাকারস, সল্টেড ও ভেজিটেবল বিস্কুট, হরেক রকম স্যুপ, সালাদ ড্রেসিং, বিভিন্ন নামের সস, ফ্রাইড রাইস, ফ্রাইড প্রোন, প্রোন বল, সুইট অ্যান্ড সাওয়ার প্রোন, চিকেন ভেজিটেবল, ফিশ ভেজিটেবল, পিৎজা, স্যান্ডউইচ, নুডলস, হোটেল-রেস্টুরেন্টের রোস্ট, ফ্রাই, কারিসহ চায়নিজ সব খাবারে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয়।

যেহেতু আমাদের দেশে এই ক্ষতিকারক উপাদানটি এখনো নিষিদ্ধ হয়নি, আমাদের বাড়তি সচেতনতাই পারে এই বিষাক্ত উপদানের থেকে বেচে থাকতে। চাইনীজ রেস্টুরেন্টে অর্ডার করার সময় নির্দেশনা দিয়ে দিন যাতে করে আপনার খাবারে MSG দেয়া না হয়। কেনাকাটার সময় প্যকেটের গায়ের লিখা যত্নসহকারে পড়ে দেখুন এতে MSG যুক্ত করা আছে কিনা। MSG যুক্ত থাকলে খাদ্য প্রস্তুতকারীরা প্যকেটের গায়ে অবশ্যই উল্লেখ করবে যে এতে MSG বা মনো সোডিয়াম গ্লুটামেট যুক্ত আছে। তাই কেনা কাটার সময় সতর্ক থাকুন; জেনে, বুঝে কিনুন, ভালো থাকুন।